দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পর চালক আব্দুল মান্নান মোল্লা হত্যা মামলার এক আসামি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১৯ জুলাই) সকালে বগুড়া শহরের ডিবি কার্যালয়ের হাজতখানার বাথরুমে নিজের পরনের লুঙ্গি গলায় পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত আসামির নাম মো. আসাদ (৩০)। তিনি সারিয়াকান্দি উপজেলার জোড়গাছা মধ্য উত্তরপাড়া গ্রামের মতি মুন্সির ছেলে।
এর আগে, গত ২৯ জুন সকালে সারিয়াকান্দি উপজেলার দড়িপাড়া গ্রামের কৈ-খালি বিলের পাশ থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আব্দুল মান্নান মোল্লার লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি গাবতলী উপজেলার মালিয়ানডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। এ ঘটনায় ১ জুলাই সারিয়াকান্দি থানায় মামলা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৯৪, ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
ডিবি পুলিশ জানায়, গতকাল শনিবার দুপুর সোয়া একটার দিকে বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে আসাদকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং এ ঘটনায় আরও দুজন জড়িত থাকার কথা জানান। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে নওগাঁয় অভিযান চালায় ডিবির একটি দল। অভিযান শেষে রাতে তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে ফিরিয়ে আনা হয়। রাতে খাবার খেয়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, রোববার সকাল ১০টার দিকে আসাদ হাজতখানার বাথরুমে যান। সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে দীর্ঘ সময় বাথরুম থেকে বের হতে না দেখে পুলিশ সদস্যরা সেখানে যান। পরে তাঁকে বাথরুমের ভেন্টিলেটরের রডের সঙ্গে লুঙ্গি পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সকাল পৌনে ১১টার দিকে তাঁকে বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) রাশেদুল ইসলাম রনি বলেন, হাসপাতালে আনার পর আসাদের গলায় ঘষা লাগার একটি চিহ্ন দেখা যায়। শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, সিএনজি ছিনতাই ও চালক হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ডিবি হেফাজতে থাকা অবস্থায় আত্মহত্যা করেছেন। সকালে বাথরুমে ঢুকে তিনি লুঙ্গি দিয়ে ভেন্টিলেটরের রডের সঙ্গে ফাঁস লাগানোর চেষ্টা করেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গত ২৯ জুন বগুড়ার বৌবাজার এলাকা থেকে তিনজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি একটি সিএনজি ভাড়া করে সারিয়াকান্দির দিকে যান। পরে চালককে হত্যা করে সিএনজিটি ছিনতাই করা হয়। এই ঘটনায় আসাদুজ্জামানকে গতকাল রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ আদালতে তাঁর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার কথা ছিল।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করা হয়েছে। মামলার বাকি দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
কে